ক্ষতবিক্ষত পৃথিবীর ফুসফুস, বাতাসে মিশছে বিপুল পরিমান কার্বন ডাই অক্সাইড

Wounded Earth's lungs, huge amounts of carbon dioxide in the air
ক্ষতবিক্ষত পৃথিবীর ফুসফুস, বাতাসে মিশছে বিপুল পরিমান কার্বন ডাই অক্সাইড, ছবিঃ গুগল

Outlinebangla Desk: পৃথিবীর সবথেকে বড় অক্সিজেন ভাণ্ডার ব্রাজিলের আমাজন,যা ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামে পরিচিত। ৫৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থান করে এই বৃষ্টি অরণ্য। পৃথিবীর কুড়ি শতাংশ অক্সিজেন উৎপাদন হয় এই অরণ্য থেকে। কিন্তু বিশ্বের এই বৃহত্তম অরণ্য এবার অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অরণ্য যতটা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করছে, তার থেকে বেশি ত্যাগ করছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ’ জার্নালে পিয়ের উইগনেরনের একটা গবেষণাপত্রে ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সমীক্ষা করে দেখা গেছে, এই ৯ বছরে অরণ্য মোট ১৬.৬ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করেছে। অন্যদিকে ১৩.৯ বিলিয়ন কার্বণ ডাই অক্সাইড গ্রহণ করেছে যা অনেকটাই কম। ফলে পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন পরিবেশ দূষণ থেকে বাঁচাতে আর সক্ষম হবে না আমাজন। এর ফলে বিশ্ব উষ্ণায়নের মত সমস্যা বাড়তে পারে।

কিন্তু হঠাৎ এই পরিবর্তন কেন? জানা গেছে, নিজেদের সুবিধার্থে ইচ্ছামতো গাছ কাটা, দাবানল এর প্রধান কারণ। যদিও আমাজনের মত এত বড় অরণ্যে দাবানল খুবই স্বাভাবিক ঘটনা । তবে ২০১৯ সালে আগস্ট মাস থেকে দীর্ঘদিন ধরে দগ্ধ হয়ে চলেছিল আমাজন, যা অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ২০১৯ সালে প্রায় ৮৩ শতাংশের বেশি দাবদাহের ঘটনা ঘটেছে। কৃত্রিম উপগ্রহের তোলা ছবি থেকে জানা গেছে, এই দাবানল প্রাকৃতিক নয়, বরং মনুষ্যসৃষ্ট। এর ফলে পৃথিবীর আবহাওয়া, জলবায়ু, জীববৈচিত্রের উপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়েছে। ফুসফুসের ক্ষত সারিয়ে আমাজনকে কিভাবে পুরনো অবস্থায় ফেরানো যায় তা নিয়ে চিন্তিত পরিবেশবিদরা।