Sukanta Bhattacharya: স্বল্প দৈর্ঘ্যের জীবনকালে তিনি যা দিয়ে গেছেন তা পাঠকের মনে আজও আলোড়ন সৃষ্টি করে

15th august special article on sukanta bhattacharya bengali poet
কবি সুকন্তের জীবন কাল খুব বেশি দৈর্ঘ্যের ছিল না। তবে তিনি অল্প সময়েই যা দিয়ে গেছেন আমাদের, তা আজও অমর হয়ে রয়েছে। তাঁর লেখা কবিতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাহিত্য কর্ম আজও পাঠকদের মনের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ‘ছাড়পত্র’, ‘রানার’ ও ‘আঠারো বছর বয়স’ তাঁর লেখা অনবদ্য সৃষ্টি যা আজও পাঠ করলে শরীরের রক্ত দ্রুত গতিতে চলতে শুরু করে।

— সুকান্ত সাঁতরা —

বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় বাংলা কবি ‘সুকান্ত ভট্টাচার্য’ (Sukanta Bhattacharya)। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম হয় ১৫ই আগস্ট ১৯২৬ সালে, সুকান্ত ভট্টাচার্যের বাবা নিবারণ ভট্টাচার্য ছিলেন এক গ্রন্থাগারের মালিক, মা সুনীতি দেবী। কবি সুকান্তের খুব কাছের একজন প্রিয় মানুষ ছিলেন রানীদি। ওই রানীদিই সুকান্ত নামটি রেখেছিলেন কথাসাহিত্যিক মনিন্দ্রলাল বসুর ‘সুকান্ত’ গল্পটি পড়ে। কবি সুকন্ত যে সময় কলম ধরেছিলেন সেই সময় মূলত ফ্যাসিবাদ আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও মন্বন্তরের সমসাময়িক পরিস্থিতি।

শিক্ষা প্রসঙ্গে বলতে গেলে, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) কোলকাতার কমলা বিদ্যামন্দির থেকে প্রথমদিকে শিক্ষা গ্রহণ করে। এই স্কুলের নিজস্ব প্রত্রিকা ‘সঞ্চয়’এ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা প্রথম ছোটগল্প প্রকাশিত হয়, এরপরই তিনি বেলেঘাটা দেশবন্ধু হাইস্কুলে ভর্তি হন। এরই মাঝে ১৯৪১ সালে কোলকাতা রেডিও আয়জিত ‘গল্পদাদুর আসর’  নামক এক অনুষ্ঠানে সুকান্ত ভট্টাচার্য সঞ্চালকেরে দায়িত্বে যোগদেন। এই অনুষ্ঠানে মূলত রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করতেন তিনি। এই সবের মাঝেই প্রবেশিকা পরিক্ষা দেন ১৯৪৫ সালে। এর কিছুদিন পরে তিনি ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরেন। এবং সেই সময়ে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে, ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হিসাবে নিযুক্ত হন। এই সবকিছুর মধ্যে তিনি পড়াশুনাতে ইতি টানেন।

তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে, স্বাধীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তাই তিনি সেই সময় নিজের জ্বালাময়ী লেখার মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু করেন।

এই কারনে তিনি ১৯৪৪ সালে সংকলন গ্রন্থ সম্পাদনা করেন, ওই সংকলন গ্রন্থের নাম ছিল “ আকাল”। তিনি এই গ্রন্থে সমাজের দুর্দশাপিরীত ও শোষিত মানুষের কর্ম জীবন, ও স্বাধীন সমাজ তৈরি করার বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বাংলার দুর্ভিক্ষকালিন পরিস্থিতিতে একজন ত্রাণ কর্মী হয়ে উঠেছিলেন। এছাড়াও তিনি পূর্ব কলকাতার পাটকলের ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠকদের সহায়তা করেছিলেন। তৎকালীন পরিস্থিতির মধ্যে তার লেখা কবিতা গুলি যুবসমাজ কে উদবুদ্ধ করেছিল। এবং অনেকেই স্বাধীন সমাজ গড়ার সংগ্রামে যুক্ত হয়েছিল।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের সমস্ত রচনাবলীর মধ্যে যেগুলি মানুষের মনে গভীর ভাবে দাগ কাটে টা হল- ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) ইত্যাদি। কবি সুকান্ত প্রথম থেকেই ধরাবাঁধা নিয়মে বড় হয়ে ওঠেনি। নিজের অদম্য জেদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে স্বাধীন সমাজ গড়ার লড়ায়, অন্যদিকে সাহিত্যকর্ম, নিজেকে কখনো বিশ্রাম দেননি। এই অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে তিনি শারীরিক ভাবে দুর্বল হয়ে পরেন। প্রথমে তিনি ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত্র হন ও কিছুদিন পরে তাঁর শরীরে দুরারোগ্য যক্ষারোগ বাসা বাঁধে। এবং মাত্র ২১ বছর বয়সে কলকাতার ১১৯ লাউডট স্ট্রিটের রেড এড কিওর হোমে মৃত্যু হয় তাঁর। সালটা ছিল ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে।