Homeতথ্যমুলকPresident Pranab Mukherjee:নেই আদরের পল্টু ,আগের মত জাঁকজমক হবে না মুখার্জী বাড়ির...

President Pranab Mukherjee:নেই আদরের পল্টু ,আগের মত জাঁকজমক হবে না মুখার্জী বাড়ির দুর্গাপুজা

আউটলাইন বাংলা: দীর্ঘ ২১ দিনের লড়াই শেষে করে চলে গেলেন মিরাটির প্রিয় পল্টু। বীরভূমের ভূমি পুত্র তথা ভারতবর্ষের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি (President Pranab Mukherjee)।  বাঙ্গালীর প্রথম এবং ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপধ্যায়ে ডাক নাম ছিল পল্টু । বীরভূম জেলার অন্তর্গত লাভপুর থানার মিরাটি গ্রামে। ১৯৩৫ সালে ১১ডিসেম্বর এক ব্রম্ভান পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তার পিতার নাম কামদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম ছিল রাজলক্ষ্মী দেবী।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় (President Pranab Mukherjee) সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র ছিলেন। তার রাজনৈতিক কর্মজীবন ছিল ছয় দশক ব্যাপী। তিনি ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি হিসাবে পদ অলংকৃত করেছিলেন ২৫ শে জুলাই ২০১২ থেকে ২৪ শে জুলাই২০১৭ পর্যন্ত। দেশের প্রতি অবদানের জন্য তাকে ভারতের সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারত রত্ন ও পদ্মবিভূষণ এবং শ্রেষ্ঠ সাংসদ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এখন সবই স্মৃতির পাতায়। গত১০ আগস্ট বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত লাগে তার। নতুন দিল্লির সেনা হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। গতকাল সোমবার বিকালে ফুসফুসের সংক্রমণে মৃত্যু হয় তার।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসী তথা আত্মীয় কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তাদের প্রিয় পল্টু  আর গ্রামে ফিরবেন না। আসবেন না আর দুর্গা পুজো তে সেই প্রিয় পল্টু। রাষ্ট্রপতি হওয়া সত্বেও বিগত বছর গুলি তে নিয়মিত পারিবারিক দুর্গাপূজাতে আসতেন তিনি। কিন্তু এবার আর আসবেন না তিনি। চিরজীবন তাকে আর পাওয়া যাবে না। আগের মত হবে না আর মুখার্জী বাড়ির দুর্গাপুজো জাঁকজমক করে। এই ভেবেই মন বিষণ্ন এলাকার আত্মীয় পরিজন দের

 বছরে একবার হলেও গ্রামের প্রিয় পল্টুকে (President Pranab Mukherjee) কাছ থেকে তো দেখার সুযোগ পেতেন গ্রামবাসীরা

।পূজো চার দিন নিজে হাতে দুর্গাপুজোর পরিচালনা করতেন গ্রামের প্রিয় পল্টু। সপ্তমীতে কলাবউ স্নান থেকে শুরু করে অষ্টমীতে চণ্ডীপাঠ সবকিছু করতেন নিজে হতে। মুখার্জি বাড়ির দুর্গাপুজোয় হতো কার্যত এলাহী আয়োজন। কিন্তু এই বছর সেটা আর হবে না, সেই ভেবেই গ্রামের প্রতিবেশী, পরিজন থেকে সকলেই ভারাক্রান্ত।

অন্যদিকে পূর্বে তিনি সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজ ও কলেজের ছাত্রাবাসের একজন আবাসিক ছিলেন, কলেজর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানানো হয় কলেজের পক্ষ থেকে। তিনি পূর্বে কলেজের যে হোস্টেলে ছিলেন রবীন্দ্র ছাত্রাবাসে প্রাক্তন আবাসিক ও বর্তমান আবাসিক সকলে মন ভারাক্রান্ত।

এ বিষয়ে ছাত্রাবাসের একজন প্রাক্তন আবাসিক মৃণাল ব্যানার্জি জানান ” উনি ছিলেন সর্ব ক্ষেত্রে বিরাজমান। ছাত্রাবস্থা, প্রাথমিক কর্মজীবন, রাজনৈতিক জীবন, সর্বোপরি প্রেসিডেন্ট, তার পরে উনার অবসর গ্রহণ। তিনি যেখানেই গেছেন সেখানেই সম ভাবে বিরাজমান, উনাকে আলাদা ভাবে কোথাও পরিচয় দিতে হয় নি, তার কর্ম পরিকল্পনা, সচ্ছ ধারণা বা উনার ভাবমূর্তি সকলের কাছে গ্রহণ যোগ্য। উনার এই ভাবে চলে যাওয়াতে আমরা কলেজের ও ছাত্রাবাসের প্রাক্তন ও বর্তমান সকল আবাসিকেরা ভারাক্রান্ত।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির প্রয়ানে দেশজুড়ে সাত দিনের শোক পালন, জাতীয় পতাকা থাকবে অর্ধ নমিত। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি অফিস ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। বীরভূম জেলা তথা দেশবাসী সকলের মনএখন ভারাক্রান্ত।

— লিখেছেন রিন্টু পাঁজা, বীরভূম

এই মুহূর্তে