Thursday, January 28, 2021
Home প্রচারমূলক Psychedelic music: সঙ্গীত যখন সাইকিডেলিক, আপনাকে নতুন রাস্তায় নিয়ে যাবে ‘সংমিশ্রন’

Psychedelic music: সঙ্গীত যখন সাইকিডেলিক, আপনাকে নতুন রাস্তায় নিয়ে যাবে ‘সংমিশ্রন’

আউটলাইন বাংলা: প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবন ভাল লাগছেনা, কিন্তু উপায় নেই ইচ্ছে না থাকলেও কাজ করতেই হবে। সকাল বেলা অফিস যাবেন বলে রাস্তায় বেরোলেন। এমন সময় পিছনে একটা গাড়ি এসে হর্ন দিল বলল, ‘চলুন পৌঁছে দিই’। আপনিও উঠে পড়লেন। সেই গাড়ি আপনাকে নিয়ে চলে গেল একদম অন্য একটা রাস্তায়। আপনি দেখলেন দূরে পাহাড়, ঝরনা, জল পড়ছে, সাদা-কালো মেঘ উড়ে যাচ্ছে আকাশে, আপনি হাঁ করে তাকিয়ে আছেন। প্রকৃতির কি অদ্ভুত সৌন্দর্য, চারিদিকে সবুজ। আপানার মন জুরিয়ে গেল। অনেক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে গাড়ি আপনাকে নির্দিষ্ট জায়গায় নামিয়ে দিয়ে গেল। একটু দেরি হল কিন্তু ট্রিপ’টা আপনি খুব উপভোগ করলেন।

 

অবশ্য এরকম একটা ট্রিপ কেই না উপভোগ করবে! এবার আমি যদি বলি একটা গান বা বিশেষ ধরনের কিছু গান আপনাকে এরকম একটা ট্রিপ অফার করতে পারে। হয়তো বিশ্বাস করবেন ন। তবে একদম খাঁটি কথা বলছি। অনেক ধরনের (Genres) মিউজিক শুনেছেন। রক, পপ, ক্লাসিক্যাল, হিপ হপ, জ্যায, সউল, ডান্স আরও অনেক কিছু কিন্তু সাইকিডেলিক মিউজিক (Psychedelic music) শুনেছেন কি? অনেকে সাইকেডেলিয়াও (psychedelia) বলে থাকেন। এই সঙ্গীতের মধ্যে এই রকমই এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে, যা শুনে আপনি হয়ে যাবেন মানসিক ভাবে একদম স্থিতিশীল। যাকে বলে ‘mentally relaxed’।

 

jefferson airplane
Jefferson airplane 1960 art

এই ধারার সঙ্গীত শুরু হয় ১৯৬০ সালে, আমেরিকায়,

পরে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং ডেনমার্কের মতো দেশে প্রচুর ব্যান্ডকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে এই সঙ্গীতের ধারা। এশিয়া, মধ্য আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়া এই সঙ্গীতকে করে তুলেছে আরও জনপ্রিয়। তবে সাইকিডেলিক বুঝতে গেলে আমাদের আরও কিছুটা পিছিয়ে যেতে হবে। সাল ১৯৩০, তার কিছুদিন পরেই আবিষ্কার হল এল এস ডি (LSD-Lysergic acid diethylamide)। ওউসলি স্ট্যানলি (Owsley Stanley) নামে এক ভদ্রলোক সান ফ্রান্সিসকোতে একটি এলএসডি কারখানা প্রতিষ্ঠা করলেন। তিনি সমাজে বিভিন্ন ধরনের মানুষকে এই ড্রাগ ব্যাবহারে উৎসাহ দিতে থাকেন এবং সেই সময় অনেকেই এই ড্রাগের ব্যাবহার শুরু করেন।

 

blues project
Band blues project

এল এস ডির (LSD)  বৈশিষ্ট্য গুলির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সাইকিডেলিক মিউজিকের মূল উপাদান। ডিক্রোনাইজেশন, অবচেতনকরণ এবং গতিশীলকরণ (Dechronicization, Depersonalization, and Dynamization)। মেডিকেল সাইন্সে ‘ডিক্রোনাইজেশন ‘ ওষুধ ব্যবহারকারীদের মধ্যে সময়ের প্রচলিত ধারণার বাইরে চলে যাওয়ার একটি প্রবনতা দেখা যায়। অবচেতকরণ বা Depersonalization এর অর্থ নিজেকে হারিয়ে ফেলা, একদম নির্বিকার হয়ে পড়া। আর ডায়নামাইজেশন Dynamization এর অর্থ হল মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন রুপ গুলি আপনার কাছে চলমান হয়ে উঠবে। আপনার চারিপাশে সব কিছু গতিশিল হয়ে উঠবে, আপনি একটা অন্য জগতে চলে যাবে এবং সেটা উপভোগ করবেন। LSD র এই প্রভাব গুলিকেই মূলত সাইকেডেলিক সংগীত অনুকরণ করে, এবং আপনাকে সেই মাত্রায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুন- সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রভাব ও অর্থশালীর প্রতিপত্তি শেষ কথা নয়

pink floyd band
Band pink floyd

LSD কে সমাজ ভাল চোখে দেখেনি,

তবে সেই সময়ে শিল্প জগৎ তাকে একদম বর্জন করেনি, এক্সপেরিমেন্ট করেছে বলতে পারেন। ১৯৬০ এর সাইকেডেলিয়া দ্বারা প্রভাবিত ধারা সাইকেডেলিক জনার (Psychedelic genres)। সংগীতের পাইওনিয়ার ব্যান্ডগুলির মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির ‘হলি মডেল রাউন্ডার’ (Holy Modal Rounders), জেফারসন এয়ারপ্লেন (Jefferson Airplane), ব্লুজ প্রজেক্ট (Blues Project), পিঙ্ক ফ্লয়েড (Pink Floyd) এবং আরও অন্যান্য ব্যান্ড সাইকেডেলিয়া দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের নিজস্ব রেকর্ড প্রকাশ করেছে।

 

বাংলায় এই মিউজিক জনার নিয়ে সেভাবে কাজ হয়নি, বা তেমন নিয়ম মেনে এক্সপেরিমেন্ট হয়নি বলা যায়। তবে বাংলা ব্যান্ড ফসিলস্ কিছু কাজ করেছে।

band songmishron adda
Bangla band songmishron

সাইকিডেলিক সংগীতে গানের কথার (Lyrics) ওপর বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। বর্তমানে বাংলা ব্যান্ড সংমিশ্রন (Songmishron) সঙ্গীতের এই ধারা নিয়ে কাজ করছে। তারা বেশ কয়েকটি গানও প্রকাশ করেছে। তার মধ্যে “ও মন তুই শোন” এবং “সাদা কাগজের ভাঁজে” এই গান দুটি বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। এই ধরনের গানের ক্ষেত্রে মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট, স্টুডিয়ো এফেক্ট, সাউন্ডের প্যানিং (Panning the music from one side to another of the stereo track), ডিলে (Long delay loops), রিভার্ব (Extreme reverb) ইত্যাদি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়, যা আপনাকে অন্য এক মাত্রায় নিয়ে যাবে। সংমিশ্রনের গানে এই বৈশিষ্ট্য গুলি সবকয়টি রয়েছে।

শুনুন – ও মন তুই শোন, by Songmishron

শুনুন- সাদা কাগজের ভাঁজে, by Songmishron

যারা এখনও শোনেননি তারা সংমিশ্রন এর ইউটিউব চ্যানেলে গিয়ে গান দুটি শুনে আসুন। অবশ্যই হেডফোনে শোনার চেষ্টা করবেন। আরও অন্যান্য গান আছে সেগুলিও শুনুন। কে বলতে পারে দেখুন হয়তো ট্যাক্সি নিয়ে পৌঁছে যাবেন অন্য কোনো এক অজানা জায়গায়, পাহাড়, ঝরনা, সবুজ সবকিছুই পাবেন সেখানে। যান ইউটিউবে গিয়ে টাইপ করুন ‘Songmishron’

Most Popular