Homeব্লগট্রেন্ড ভাইরাল, আপনার বাচ্চার আধুনিকতার ভবিষ্যত কি?

ট্রেন্ড ভাইরাল, আপনার বাচ্চার আধুনিকতার ভবিষ্যত কি?

জন্মের পর বাচ্চা সবথেকে বেশি সময় কাটায় তার মায়ের সঙ্গে। মায়ের কোলে হেঁসে খেলে সে বড় হয়। কিন্তু  এখন বাচ্চা হঠাৎ কান্না জুড়ে দিলে ইউটিউবে ভিডিও চালিয়ে দেওয়ার এক নতুন প্রবনতা তৈরি হয়েছে, বাচ্চাও চুপ, এ এক আজব কান্ড। বাচ্চাদের কি সত্যিই আমরা একটা আধুনিকতায় ভরা ভবিষ্যৎ উপহার দিচ্ছি, নাকি একদমই উল্টোটা?

— লিখেছেন- রিন্টু পাঁজা

বর্তমান যুগ আধুনিক, এই যুগে পরিবর্তনের পথে মানুষ হাঁটছে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে সে কথা বলে বোঝাতে হবেনা। আমাদের সময় ইন্টারনেট বা মোবাইল শব্দটা খুব একটা পরিচিত ছিল না। সে সময় বাচ্চা কান্না-কাটি করলে তাদের চুপ করানো টা ছিল অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার, কিন্তু এখন এসেছে মোবাইল, তাতে ইন্টারনেট রয়েছে, কোন একটা মজাদার গান বা ভিডিও চালিয়ে দিলেই বাচ্চা চুপ। আশির দশকের পরে মানুষ সময় এর সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন করে ফেলেছে।

 

কিন্তু এই মোবাইল ইন্টারনেটের যুগে খুব কম বয়েসে বাচ্চাদের একটা বড় চারিত্রিক পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। কম বয়সেই হতাশা, একাকীত্ব গ্রাস করছে তাদের। শারীরিক বিভিন্ন সমস্যাতো আছেই। এর দায় কিন্তু আমাদের, এখনকার মা বাবা দের। বাচ্চার মানসিক পরিচর্যায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে, বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়া।

 

ঠিক একইভাবে পূর্বে পিতামাতা দের যে ভাবে ভক্তি শ্রদ্ধা করতো ছেলে মেয়েরা,বর্তমানে সেই জিনিস চোখে পড়ে না। তবে ভক্তি শ্রদ্ধার ধরন পাল্টে গেছে কি না সে বিষয়ে যুক্তি তর্কের অবকাশ রয়েছে। যুগের সঙ্গে উন্নতি ঘটেছে সব কিছুর, ৩ জি থেকে ৪ জির যুগে পদার্পণ করার পর ভার্চুয়ালি বা শোস্যাল মিডিয়াতে মা বাবার প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালবাসা সবই বেড়েছে একথা বলাই যায়। বিভিন্ন বিশেষ দিনে বিভিন্ন ছবিতে তার প্রমান মেলে।

 

এ বিষয়ে স্কুল শিক্ষক দের মতামত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ রুপে গৃহীত হয়।

কারন এই বিষয় গুলি তাদের চোখে খুব স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়ে। এমনই এক স্কুল শিক্ষকের কথায় “আমার স্কুলের চাকরি খুব বেশিদিনের নয়। যেটুকু দেখেছি তাতে মনে হয়, খুব কম সময়ে যেনো এই বিশ্বটা পরিবর্তনের অধ্যয়ে পরিণীতি হয়েছে। আজ একটা কথা মনে পড়ে, যখন ছোটো ছিলাম তখন এই বর্তমান যুগের ছেলে মেয়ে দের মত মোবাইল, টিভি, ইন্টারনেটের সঙ্গে পরিচিত ছিলাম না। আজ ইন্টারনেট সমগ্র বিশ্বটা জয় করে ফেলেছে। অন্যদিকে ইন্টারনেট পিতামাতার সঙ্গে ছেলে মেয়েদের বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছে। ক্লাসে ছেলে মেয়েদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে। যেখানে বাইরে বেরিয়ে মাঠে ঘাটে খেলেধুলা করা প্রয়োজন সেখানে মোবাইল বা ইন্টারনেট গেমে বাচ্চারা অ্যাডিক্টেড হয়ে পড়ছে। যেটা তাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একদম ভাল নয়।“

 

ইন্টারনেটের নতুন ট্রেন্ড “ভাইরাল”। তাতে অনেক লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার। বিভিন্ন বাচ্চার বিভিন্ন কার্য কলাপ যেমন নাচ, গান, কবিতা আরও বিভিন্ন জিনিস ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পৌঁছায়  মা-ববার কাছে। সেসব এক্সপার্ট বাচ্চা দের দেখে তাদের মনেও সুপ্ত বাসনা তৈরি হয়, ‘আমার ছেলেটা বা মেয়েটা যদি এমন হত।‘ কিন্তু বাচ্চা দের সহজাত প্রবৃত্তি সেটা নয়। তারা সব বিষয়ে পারদর্শী হয় না। কেও কেও কিছু বিষয়ে পারদর্শী হতে পারে। তবে তাকেও অভ্যাস করতে হয়। কোনটা ভাল বা কোনটা খারাপ সেটা বোঝার ক্ষমতা বাচ্চার নেই। কাজেই আপনি ঠিক করুন তাকে ট্রেনিং দিয়ে এক্সপার্ট মেশিন তৈরি করবেন নাকি নিজের মত বেড়ে উঠতে দেবেন। আজ ন্যাশনাল পেরেন্টস ডে (National Parents Day) তে এই কথাটা একবার অন্তত ভাবুন।

 

সর্বশেষ বলবো, এখন ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আমরা আধ্যাত্বিক ভার্চুয়াল জীবন যাপন করি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাই ফেসবুক, ইন্সতা, ইউটিউবে। ইন্টারনেট ব্যাবহারের প্রবনতা বাড়লেও সারাদিনে সময় কিন্তু ২৪ ঘণ্টা, সেটা বাড়েনি। তাই অন্যদিকে বরাদ্দ সময় কমে জাওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা ভেবে শোস্যাল মিডিয়া ব্যাবহারে রাশ টানতে হবে আপনাকে।

 

—আউটলাইন বাংলা, বিশেষ নিবন্ধ 

এই মুহূর্তে