Friday, January 22, 2021
Home কৌতূহলী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব কি পরিবেশের প্রতি উদাসীন, অসচেতন? তাহলে শ্রেষ্ঠত্বের নমুনা কি?

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব কি পরিবেশের প্রতি উদাসীন, অসচেতন? তাহলে শ্রেষ্ঠত্বের নমুনা কি?

৩০ বছর পর পাঞ্জাব থেকে দেখা গেল হিমালয় পর্বত। যমুনার নোংরা জল যা কিনা ব্যাবহারের অযোগ্য ছিল তা এখন একদম পরিষ্কার। আমি আপনি বাড়ি থেকে বেরোতে পারছিনা কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু এরপর বাইরে বেরোলে আপনার শ্বাসকষ্ট হয়তো অনেকটাই কম হবে কারন বাতাস এখন আগের থেকে অনেকটাই পরিষ্কার।

—লিখেছেন- শান্তনু রায়

 

পৃথিবীর যেটুকু রসদ ছাড়া মানবজাতি অস্তিত্বহীনতার মেঘে ঢেকে যায় তা পরিবেশ। স্বেচ্ছাচার ও সীমাহীন লোভের বশবর্তী হয়ে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্যকে নষ্ট করে চলেছি আমরা। উদাসিন্য ও অসচেতনতা দূর করার জন্য নির্ধারিত একটি বা দুটি দিন যথেষ্ট নয়। পরিবেশের কাছে আমরা ঋণী হই প্রতিদিনই। পরিবেশ রক্ষায় পরিকল্পনা ও নিয়মানুবর্তিতা পাথেও হলেও, সচেতন হওয়া ও সচেতনতা গড়ে তোলা ভীষণ জরুরী। পরিবেশের যে কোনো উপাদানের ভারসাম্যহীনতা অদূর ভবিষ্যতের আসনি সংকেত।

 

ছোটো থেকে পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা জাগরন করার জন্য বিভিন্ন জিনিস শেখানো হয়। জলের অপর নাম “জীবন” অর্থাৎ জল ছাড়া জীবন নির্বাহ অকল্পনীয়। কিন্তু জলেরও উর্ধ্বে ”বায়ু”। জল বিনা কয়েকদিন বাঁচা সম্ভব, কিন্তু শুদ্ধ বাতাস ছাড়া কয়েক মিনিট বাঁচা অসম্ভব। একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার ইদুরদৌড়ে সামিল হয়ে জীবনে গতিময়তা আনার জন্য যে সব অপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিচ্ছে মানুষ তাতেই ক্রমশ কুলশিত হচ্ছে পরিবেশ। যার প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ প্রভাব সামলাতে হচ্ছে সমগ্র জীবকুলকে।

 

special article pollutionএর প্রকৃষ্ট উদাহরন বাষ্পদূষণ, কলকারখানার ধোঁয়া অন্যতম উৎস হলেও যানবাহন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলি প্রায় একই মাত্রায় ক্ষতি সাধন করে। যার কুফল কম বেশি সকলেরই জানা। ধোঁয়াশার কারনে বিশ্বের বিশেষ কিছু জনবহুল শহরের শীতকালীন পরিস্থিতিতে দৃষ্টিপাত করলেই তা অনুমেয়। এছাড়া শ্বাসজনিত সমস্যা ও দুরারোগ্য ব্যধি কুফলের তালিকাকে দীর্ঘায়িত করে।

 

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে ব্যর্থ এবং তার অনেকটাই অসচেতনতার ফল। আমরা যেখানে থাকি অর্থাৎ আমাদের বাড়ি ঘর আমরা পরিষ্কার করি, সেই নোংরা আবর্জনা পরিবেশে নিক্ষেপ করি কিন্তু কখনো পরিবেশ পরিষ্কারে সচেষ্ট হই না। অনেকেই এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না। তবে করোনা ভাইরাস মহামারী এসে পরিবেশ পরিছন্নতা এবং তার প্রয়োজনীয়তার একটি পাঠ মানবজাতিকে দিয়েছে।

পরিবেশকে বোঝার জন্য COVID-19 বা করোনা ভাইরাস মহামারী কিন্তু আমাদের একটি বড় সুযোগ করে দিয়েছে। শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে যা আমাদের বিবেচ্য।

nature conservation pollutionপুন্যতোরা নদী গঙ্গা, যমুনার জলের গুনগতমান ক্রমেই অবনতির দিকে গড়াচ্ছে। পৃথিবীর সিংহভাগই সমুদ্রের জল। সমুদ্র দূষণের প্রভাব ক্রমেই জলজ বাস্তুতন্ত্রকে ধংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ঠিক এমন সময় গঙ্গার জল হয়ে উঠল পানের উপযোগী (কিছুটা পরিশুদ্ধ করার পর পান করা যাবে), বায়ু দূষণের মাত্রা কমল Air Quality Index (AQI) Improve, বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী দেখা গেল উপকুলবর্তী এলাকায়। ৩০ বছর পর পাঞ্জাব থেকে দেখা গেল হিমালয় পর্বত। আমরা পরিষ্কার ধবধবে সাদা তাজমহল দেখলাম। এবার বৃষ্টিও হয়েছে অন্য বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এতে আখেরে লাভ হয়েছে আমাদেরই।

 

পরিবেশ নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নিয়েছে। তাই বাড়িতে বসে থেকে যে কিছুই লাভ হয় নি একথা বলা ঠিক হবে না। জল দূষণের ফলে জটিল ব্যধি থেকে মহামারি সবটাই বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত চিত্র। জীবকুলের মধ্যে বুদ্ধিমান জাতি হওয়ার দরুন আমরা পরিবেশের এহেন ক্ষতি দেখে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারি না। ক্ষতি সে প্রত্যক্ষ বা পরক্ষ যাই হোক তাকে যথা সম্ভব প্রত্যাখ্যান করাই হবে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ। যে সকল ক্ষেত্রে আমরা এখনও বিকল্প খুজতে ব্যর্থ হয়েছি সেই সকল দ্রব্যাদিকে পুনর্ব্যবহারের উপর জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নীতি ও  নিয়ম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

 

Plastic-burning pollutionপরিবেশ রক্ষায় পরিকল্পনা ও নিয়মানুবর্তিতা প্রধান হলেও সচেতন হওয়া ও সর্বস্তরে সচেতনতা গড়ে তোলা ভীষণ জরুরী। আজ ২৮ জুলাই যা বিশ্ব পরিবেশ সংরক্ষন দিবস হিসেবে পালিত হয়। একটি নির্দিষ্ট দিনে সকলকেই পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। তবে পরিবেশ রক্ষার্থে আমাদের কাজ করতে হবে সারা বছর যার সাথে প্রতক্ষ ভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের স্বার্থ, আমাদের ভাল থাকা। আমরা যেন সুস্থ ও নির্মল পরিবেশ পরবর্তী প্রজন্মকে উপহার দিয়ে যেতে পারি। সকলে মিলে হাতে হাত রেখে পথ চললে নির্মল পরিবেশের কল্পনা বাস্তবায়িত হবেই।

—আউটলাইন বাংলা, বিশেষ নিবন্ধ

Most Popular