Saturday, January 23, 2021
Home কৌতূহলী Swami Vivekananda: যিনি সমগ্র বিশ্বকে ভারতের সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

Swami Vivekananda: যিনি সমগ্র বিশ্বকে ভারতের সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

আউটলাইন বাংলা স্পেশাল: আজ সারা ভারতবর্ষের স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda), ১৫৯ তম জন্মদিবস পালিত হচ্ছে (birthday of swami Vivekananda)। যিনি একদিন সমগ্র বিশ্বকে ভারতের সংস্কৃতি, ধর্মের মূল ভিত্তি এবং নৈতিক মূল্যবোধের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি একজন বিখ্যাত দার্শনিক ছিলেন। তাঁর বলে যাওয়া কথা ও তাঁর লেখা বই গুলি আজও সমগ্র দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। স্বামী বিবেকানন্দের উচ্চ চিন্তাধারা, আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রত্যেক মানুষের মনে আজও গভীর ছাপ ফেলে (samijir bani), দেশের যুব স্পম্প্রদায়কে প্রেরনা যোগায়।

পরিবার পরিচয়:

স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম ১২ জানুয়ারি ১৮৬৩ সালে উত্তর কলকাতার শিমুলিয়া গ্রামের বিখ্যাত দত্ত পরিবারে। স্বামী বিবেকানন্দর (birthday of swami Vivekananda), শৈশবের নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তাঁর বাবা বিশ্বনাথ দত্ত, যিনি একজন সুপরিচিত এবং সফল আইনজীবী ছিলেন। মাতা ভুবনেশ্বরী দেবী, যিনি খুব বুদ্ধিমতি এবং ধর্মীয় ছিলেন। যার কারণে বিবেকানন্দ শৈশবে তাঁর মায়ের কাছ থেকে হিন্দু ধর্ম এবং সনাতন সংস্কৃতি বোঝার সুযোগ পেয়েছিলেন।

শৈশব জীবনে বিবেকানন্দ:

বিবেকানন্দ প্রথম থেকেই আর্থিক ভাবে সচ্ছল পরিবারে বড় হয়ে উঠেছিল। বিবেকানন্দের বাবা বিশ্বনাথ দত্ত পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে খুব বিশ্বাসী ছিলেন। তাই তিনি বিবেকানন্দকে ইংরেজি ভাষা ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতি শেখাতে চেয়েছিলেন। এবং মাতা ভুবনেশ্বরী দেবী ধার্মিক হওয়ার জন্য শৈশবে নরেন্দ্রনাথএর কাছে (ওরফে বিবেকানন্দ) রামায়ণ ও মহাভারতের গল্প বর্ণনা করতেন। যার ফলে আধ্যাত্মিকতার জ্ঞান বাড়তে থাকে স্বামী বিবেকানন্দের। এবং তখন থেকেই বিভিন্ন দেবদেবীর সামনে ধ্যানে বসতেন স্বামী বিবেকানন্দ।

স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা:

সালটা ১৮৭১ স্বামী বিবেকানন্দ মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন, ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে তার পরিবার সাময়িকভাবে রায়পুরে ছত্তিসগড় স্থানান্তরিত হয়। এবং ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর পরিবার পুনরায় কলকাতায় ফিরে আসেন। এর পরই প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাশ করে ভর্তি হন কোলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে | এবং ওই বছরই কলেজের সব পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়। এরপর প্রেসিডেন্সি থেকে তিনি পড়াশোনা শেষ করে এবং তারপর স্কটিশ চার্চে কলেজে ভর্তি হন। এখান থেকে স্বামী বিবেকানন্দ পাশ্চাত্য যুক্তিবিদ্যা, পাশ্চাত্য দর্শন ও ইউরোপীয় ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৮৮৪ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

national youth day
শিষ্যদের সঙ্গে স্বামীজী, Image Source: Google

স্বামী বিবেকানন্দ জীবন যাত্রা:

মাত্র ২৫ বছর বয়সে, স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda), নিজের বাড়ি এবং পরিবার ছেড়ে সন্ন্যাসী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শোনা যায়, বিবেকানন্দ ব্রাহ্মসমাজের নেতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, “আপনি ঈশ্বরকে দেখেছেন?” এই কৌতূহলকে দূর করতে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বিবেকানন্দকে রামকৃষ্ণ পরমহংসের সাথে সাক্ষাৎ করার পরামর্শ দেন। মহর্ষি দেবেন্দ্র নাথ ঠাকুরের কথামত রামকৃষ্ণ পরমহংসের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এবং রামকৃষ্ণ পরমহংসের কৃপায় স্বামীজী জ্ঞানার্জন করেন এবং তাঁর প্রধান শিষ্য হয়ে ওঠেন।
১৮৮৫ সালে যখন রামকৃষ্ণ দেবের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, ঠিক ওই সময় থেকেই স্বামী বিবেকানন্দ পরমহংসের সেবায় নিযুক্ত হয়। রামকৃষ্ণ দেবের মৃত্যুর পর স্বামীজি বরাহনগর অঞ্চলে রামকৃষ্ণ মঠের প্রতিষ্ঠা করেন। এর পর ১৮৮৮ সালে তিনি পরিব্রাজকরূপে মঠ ত্যাগ করেন।

birth anniversary of swami vivekananda
Image Source: Google

শিকাগো বিশ্ব ধর্ম সম্মেলন:

১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিকাগোতে বিশ্ব ধর্ম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। স্বামীজী ওই সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। তিনি ওই ধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা দেন। স্বামীজি সুন্দরভাবে ভারতীয় হিন্দুধর্ম ও শাস্ত্রগুলো সম্পর্কে সবার মাঝে খুব সুন্দর তুলে ধরেন যা দেখে ধর্ম সম্মেলনে উপস্থিত সকল দর্শকেরা মুগ্ধ হয়ে যান। তিনি বৈদিক সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারনা দেবার পাশা-পাশি শান্তির বার্তা দেন। আর এই কারণে স্বামীজির শ্রদ্ধা কেবল আমেরিকাতে নয়, বিশ্বজুড়েও বৃদ্ধি পেয়েছিল।

স্বামী বিবেকানন্দ মৃত্যু:

১৯০২ সালে ৪ই জুলাই, মাত্র ৩৯ বছর বয়সে স্বামী বিবেকানন্দ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন| স্বামীজির জন্মদিন পুরো ভারত জুড়ে “যুব দিবস” হিসাবে পালিত হয়। আজও তাঁর বানী গুলি (Quotations of Swami Vivekananda) দেশের যুব সমাজের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রেরনা জুগিয়ে চলেছে।

Most Popular