Kleptomania: চুরি করা যখন মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধি

Outlinebangla: ধরুন, আপনি বাড়িতে কোনো একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। এবং ওই অনুষ্ঠানে আপনার কাছের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নির্দিষ্ট দিনে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে দিনটি কাটিয়ে সমস্ত আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। ঘরে তখন আপনি বাড়ির সদস্যের সঙ্গে সারাদিনের কার্যকলাপ সম্পর্কে আলোচনা করছেন। হঠাৎ আপনি লক্ষ্য করলেন সামনের টেবিলে রাখা পুরনো একটা শো-পিস নেই। বাড়িতে আসা অতিথিদের মধ্যে কেউ কি চুরি করেছে। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব? জিনিসটির দাম যে খুব বেশি না। শেষমেষ জিনিসটি না পাওয়ার সম্ভাবনায় খরচের খাতায় তুলে দিলেন।
মাঝে মাঝে এমন পরিস্থিতির মধ্যে অনেকেই পড়েন। মজার ব্যাপার হল যারা এই ধরনের চুরি করেন তারা স্বভাবের তাড়নায় করে না। রোগের জন্য এই ধরনের নগন্য জিনিস গুলো চুরি করে থাকে। এই বিষয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা এই ধরনের চুরি করেন তারা ক্লেপটোম্যানিয়া (Kleptomania) নামক একটি মানসিক রোগে ভুগছে। ক্লেপটোম্যানিয়ায় (Kleptomania) আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো ভাবেই চুরি করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেন না। কিন্তু তার চুরি করা বস্তু দৈনন্দিন জীবনে কোনো মূল্য রাখে না।

ক্লেপটোম্যানিয়া (Kleptomania) বনাম চুরি:
ক্লেপটোম্যানিয়া একটি বিরল ও মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধি। এই ধরনের রোগীর চুরির করার প্রবনতা প্রবল। এবং এরা খুব কাছের কোনো মানুষের কাছ থেকে চুরি করতে পছন্দ করে। এরা যে সব দ্রব্য চুরি করে তা কখনো বিক্রি করে না, আবার নিজেও ব্যাবহার করে না। চুরির পর তারা আত্মগ্লানিতে ভুগতে থাকেন।

ক্লেপটোম্যানিয়ার উপসর্গ সমূহ (Symptoms of Kleptomania):
খুবই নগণ্য বস্তু চুরি করার ইচ্ছা প্রবল।
চুরি করার সময় একধরনের মানসিক শান্তি এবং আনন্দ অনুভব করা।
চুরি করার পরে অপরাধবোধে ভোগা।
চুরিগুলো কোনো বিভ্রম, বা প্রতিশোধ স্পৃহায় না করা।

ক্লেপটোম্যানিয়ার বৈশিষ্ট্যঃ
ক্লেপটোম্যানিয়ায় আক্রান্ত ব্যাক্তিরা সুপার মার্কেট বা এই ধরনের পাবলিক পরিসরে চুরি করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আত্মিয়ের বাড়ি থেকে চুরি করে।
এ ধরনের চুরিগুলো কোনোপ্রকার পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই সংগঠিত হয়ে থাকে।
চুরি করা বস্তু বা জিনিসগুলি যে খুব বেশি এমনটাও না। এরা খুবই নগন্য জিনিস চুরি করে থাকেন।

ক্লেপটোম্যানিয়ার হওয়ার কারণ (Causes of Kleptomania):
ক্লেপটোম্যানিয়ার আক্রান্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ সকলেরই আজানা। তবে মনোবিদরা এই বিষয়ে কিছু মতবাদ প্রকাশ করেছেন। সেগুলি হল-
ফ্রন্টাল লোব ডিসফাংশন: আমাদের মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব আমাদের ইছাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। সেখানে কোনো রকম নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্যহীনতার জন্য এই রোগের সূত্রপাত হয়।
জিনগত: মনোবিদদের মতে বংশানুক্রমেও ক্লেপটোম্যানিয়া দেখা দিতে পারে।
মানসিক আঘাত: অত্যাধিক মানসিক চাপ, সাংসারিক অশান্তি, মাদক দ্রব্য আসক্তি এই রোগের মূল কারণ।

ঝুঁকিঃ
এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা নিজেদের সমস্যার কথা কাউকে বলেতে পারে না। ফলে মানসিক চাপ বাড়ে। কিন্তু চুরি করতে করতে একটা সময় ঠিক ধরা পড়ে যায়। এর ফলে জেল, জরিমানা বা শাস্তি পর্যন্ত হতে পারে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগে আক্রান্ত দুই-তৃতীয়াংশ রোগীই নারী।

প্রতিকারঃ
ক্লেপটোম্যানিয়ার ঠিক কি কারনে হয় তার সঠিক উত্তর এখন মেলেনি। তাই ক্লেপটোম্যানিয়ার প্রতিকার ও প্রতিরোধের কার্যকর উপায় নেই। তবে মানোসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোগীর অবস্থার উন্নতি ঘটানো যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Health Benefits Of Carrots: গাজর খেয়েই প্রতিহত করতে পারবেন এই সমস্ত রোগগুলি

সম্পর্কিত পোস্টগুলি

আমাদের ফলো করুন

3,920FansLike
47SubscribersSubscribe

না পড়লেই মিস