Independence Day: ৭৩ বছরের পুরনো শত্রুতা আজ ৭৪ এ পা দিল

independence day the 73-year-old enmity turned 74 today
‘প্রত্যেকটি দেশের নাগরিকদের গড় আয়ু এবং ভালো থাকা শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল নয় । আয় ,সমতা, সক্ষমতা, পরিবেশ এই সবকিছুর উপর নির্ভর করে। গুণগত মানের দিক থেকেও ভারত অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে।’

— এম. এস —

আজ থেকে ৭৩ বছর আগে আমাদের দেশ স্বাধীনতা পেয়েছিল, দীর্ঘ ২০০ বছর পর। ইংরেজরা এ দেশ ছেড়ে চলে গেল, শুধু চলেই গেল না ভারত-পাকিস্তান দুটুকরো করে দিয়ে গেল। পরে বাংলাদেশে আলাদা হলো। যে আশা যে সংকল্প নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল আজ স্বাধীনতার ৭৩ বছর পর আমরা কি তা পূরণ করতে পেরেছি? নাকি স্বাধীনতা শুধুমাত্র বদলেছে শত্রুতায়?

আজ ৭৩ বছর পরেও ‘ভারত পাকিস্তান’ প্রসঙ্গ আমাদের দেশ ভক্তির খোরাক। নিত্যদিনের খবরে প্রাইম টাইমে আলোচনার বিষয় এবং ভোট প্রচারের বিশেষ হাতিয়ার হিন্দু-মুসলিম, ভারত-পাকিস্তান। ইংরেজরা দেশ ছেড়ে চলে গেলেও ক্ষমতা বজায় রাখতে তাদের দেখানো পথ অনুসরণীয় হয়ে রয়ে গেছে। ১৯৯৭ সালে ভারত পাকিস্তান উভয় দেশ ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি লাভ করে বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে রয়েছে সীমান্ত বিরোধ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস। দেশ ভাগের সময় প্রায় ১০ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। আরো কয়েক লাখ বাধ্য হয়েছিলেন তাদের ভিটেমাটি, জন্মস্থান ছাড়তে। যারা বেঁচে রয়েছেন তাদের মানসিক কষ্ট এখন লাঘব হয়নি।

আজ ৭৩ বছর পর সামাজিক বৈষম্য, আর্থিক বৈষম্য, অবিচার, কর্মসংস্থানের অভাব এইসব অতি স্বাভাবিক বিষয়।

পৃথিবীতে অন্যান্য দেশে ব্যক্তি স্বাস্থ্যের ব্যাপারে প্রায় ৮০ শতাংশ খরচ রাষ্ট্রের। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে তা একদম উল্টো। সরকারি হাসপাতাল গুলোর অবস্থা পরিকাঠামো এবং পরিষেবা বিষয়ে নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। করোনা ভাইরাসের আশীর্বাদে এ বিষয়ে বিস্তর লেখালেখি ও আলোচনা হয়েছে। কিছুদিন আগেই আমরা পরিসংখ্যান দেখেছি ন্যাশনাল ইনকাম এবং জিডিপির হার কিভাবে কমেছে।

১৯৪৭ সালের পর বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশেরও বেশি। কিন্তু আমরা এখনো প্রত্যেকটি জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পারিনি। ভোল্টেজ আপ-ডাউন স্বাভাবিক বিষয়, ফলে কোন প্রোডাকশন বা মানুফাকচারিং প্লান্ট স্থাপনে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সংস্থাগুলিকে। যার ফলস্বরুপ উদ্যোগতারা ভারতে ফ্যাক্টরি তৈরি করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

প্রত্যেকটি দেশের নাগরিকদের গড় আয়ু এবং ভালো থাকা শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল নয় আয়, সমতা, সক্ষমতা, পরিবেশ এই সবকিছুর উপর নির্ভর করে। গুণগত মানের দিক থেকেও ভারত অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে। উচ্চ শিক্ষা গবেষণা সব বিষয়েই স্বাধীনতার পরে প্রথমদিকে যে সমস্ত কলেজ ইউনিভার্সিটি গড়ে উঠেছিল সেগুলো বাদ দিলে নতুন করে সেরকম কোন নিদর্শন পাওয়া যায় না। স্বাস্থ্যের বিষয়টিও একই রকম। একটি রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি শিক্ষ, স্বাস্থ্য, বাসস্থান স্বাধীনতা ৭৩ বছর পরেও যার সম্পূর্ণ রুপায়ন সম্ভব হয়নি। দেশের প্রতি, সমাজের প্রতি আমরা উদাসীন।

তবে ৭৩ বছর পরেও আমরা ভারত-পাকিস্তান উভয় পক্ষের সম্মতিতে শত্রুতা বজায় রাখতে পেরেছি। ন্যাশনাল নিউজ চ্যানেলের চর্চার বিষয়ে এখন ভারত-পাকিস্তান। স্বাধীনতা ৭৩ বছর শত্রুতার ৭৩ বছর, ঘৃণা এবং অবজ্ঞা ৭৩ বছর, যা আমাদের মেনে নিতে হবে।