Homeস্বাস্থ্য সংক্রান্তHealth and medication Paracetamol: ওষুধ কখনোই আপনাকে সুস্থ করেনা, অতি বিশ্বস্ত প্যারাসিটামল...

Health and medication Paracetamol: ওষুধ কখনোই আপনাকে সুস্থ করেনা, অতি বিশ্বস্ত প্যারাসিটামল আদপে বিশ্বাসঘাতক!

‘আধুনিক মানুষ সর্বভূক। মাঝে মাঝে ভাবি প্রকৃতি মানুষকে একজোড়া ছেদক দন্ত (Canines) দিতে পারতো, তাতে কিছুটা সুবিধে হত। কিন্তু দিল না। কেন দিল না এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া খুব কঠিন নয়। আশে পাশে উপস্থিত প্রানীদের একটু ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝতে পারবেন (Health and medication Paracetamol)। যেমন গরু, মোষ, ছাগল, ঘোড়া কিছু প্রজাতির বাঁনর যাদের সঙ্গে মানুষের ডি.এন. এ অনেকটা মিলে যায় (কারো কারো ক্ষেত্রে অবশ্য সবটাই মিলে যায়) তাদের কারো এই বিশেষ দাঁত নেই। কারন দরকার হয় না, তারা শাকাহারী। পাতা,ফল,সব্জী, বিভিন্ন শস্যদানা,কন্দ ইত্যাদিকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।’

কিন্তু মানুষ প্রকৃতির ধার ধারে না। সংবিধান যখন স্বাধীনতা দিয়েছে তখন আমার প্লেটে কি থাকবে সেটা আমার ব্যপার, এতে আর কে কি বলতে পারে। কিন্ত বিষয় হল আপনি কি খাবেন কোনটা আপনার শরীরের জন্য এবং পরিবেশের জন্য উপকারী হবে তার একটা লিস্ট প্রকৃতি আপনাকে আগে থেকেই দিয়ে রেখেছে যেটা আপনার অজ্ঞাত কিন্তু আপনার শরীর তা ঠিকই জানে।

মানুষ প্রকৃতির জীব, আমাদের শরীর এবং এই প্রকৃতি কোনোভাবেই আলাদা নয় (Health and medication Paracetamol)। এই মর্ডান কালচারে আমরা আসতে আসতে প্রকৃতি থেকে দূরে চলে যাচ্ছি। বড়ো বড়ো কংক্রিটের বাড়ী ঘর, রাস্তা ঘাট, যেখানে একটু ঘাস জন্মানোর জায়গা নেই। এতকাল মানুষ প্রকৃতির বুকে টিকে থাকার জন্য লড়াই করেছে। এখন প্রকৃতি লড়াই করছে মানুষের তৈরি কংক্রিটের ভীড়ে একটু মাথা তোলার জন্য।

Health and medication

ওসব এখন থাক:

যে কথা বলার জন্য বাড়তি এতগুলো কথা বললাম তা হল মানুষের শরীর খারাপ, বিভিন্ন রোগ ব্যাধি হওয়ার জন্য দায়ী আমাদের খাদ্যাভাস এবং ওষুধ পত্র। ওষুধ কখনোই আপনাকে সুস্থ করেনা। বরং শরীর খারাপ হওয়ার জন্য দায়ী ওষুধ, ভালো হওয়ার জন্য নয়। আপনি নিজেই ভেবে দেখুন না, যতদিন আপনি ওষুধ খাচ্ছেন ততদিনই আপনি রোগী। আপনার আসল রিকভারি শুরু হয় ওষুধ বন্ধ করার পর যখন আপনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন। যদি সারাজীবন আপনি কনো ওষুধ চালিয়ে যান তাহলে সারাজীবনই আপনি রোগী থেকে গেলেন। প্রত্যেক টা আধুনিক ওষুধ যা চিকিৎসা বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে সবগুলোই হল স্লো-পয়জিনের মতো যাতে তৎক্ষনাৎ আপনার শরীরের উপসম হবে কিন্তু লং টার্মে গিয়ে আপনার ক্ষতি করবে।

একটু বলি তাহলে বুঝতে পারবেন:

মুখ দিয়ে আমরা খাবার খাই। এমনকি আপনি যেটা ওষুধ ভেবে খাচ্ছেন আপনার শরীরের কাছে সেটাও খাবার। খাবারের বাইরে আপনি যা খাবেন তা কোনো কিছুই আপনার কাজে লাগবে না। কেন লাগবে না? তার কারন হল আপনার শরীরের কাছে অলরেডি একটা লিস্ট আছে যে আপনি কোনগুলো খেতে পারবেন এবং কোনগুলো পারবেন না। মানুষ যেদিন পৃথিবীতে এসেছে সেদিন এই লিস্ট সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে। এবার বিজ্ঞানের তথা মানুষের তৈরি আধুনিক ওষুধপত্র ওই লিস্টে নেই। তাহলে আপনার শরীর তো সেই লিস্টের সঙ্গে কোনো মিল খুঁজে পাবে না। ফলে ওই ওষুধের দৌড় লিভার পর্ষন্ত।

লিভার হল মানুষের খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি অরগ্যান। লিভার কে বলা হয় ‘সেকেন্ড ব্রেন অব হিউম্যান বডি’ (Second brain of human body) অন্য দিকে লিভার হল শরীরের ‘কেমিক্যাল প্রসেসিং প্লান্ট’ (Chemical processing plant of the body)। মুখ দিয়ে আমরা যে সব ওষুধ গুলো গ্রহন করি সেগুলোর বেশীরভাগ এবং বেশীরভাগ পরিমান এখানে ব্রেক ডাউন (Break down) হয়। লিভার ঠিক করে কোনটা আপনার শরীরের জন্য উপযোগী হবে, সেটা পাঠানো যাবে নাকি বাইরে বের করে দিতে হবে। ওষুধ যখন পৌঁছবে সেটা লিভার লিস্ট মিলিয়ে দেখবে। যখন মিল খুঁজে পাবে না তখন সেটা বাইপাস করে দেবে। আপনার শরীরে কাজে লাগবে না।

Side effect of paracetamol liver

তাহলে ওষুধ কাজ করে কি ভাবে (How medicine works):

আপনি হয়তো জানেন না আপনাকে যে পরিমাণ ওষুধ দেওয়া হয় তার অর্ধেক পরিমাণ আপনার শরীরে কাজ করতে সক্ষম। যেমন ধরুন আপনি প্যারাসিটামল ৬৫০ মিলিগ্রাম খেলেন সেক্ষেত্রে ৩২৫ মিলিগ্রাম আপনার শরীরের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করবে (Health and medication Paracetamol)। মেডিকেল সায়েন্সে যাকে বলে হালফ লাইফ ডোজ( Half-life of a drug)। একটু বুঝিয়ে বলছি, আপনার লিভারের একটা ক্যাপাসিটি আছে নিদ্রিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমান জিনিস লিভার চেক করতে পারে। এবার ৩২৫ মিলিগ্রাম আপনাকে দিলে সেটা আপনার লিভার চেক করে বাইপাস করে দেবে। আপনার বডি সেটাকে কাজে লাগাতে পারবে না। কারন লিস্টে এই ওষুধের নাম নেই। শুধু এই ওষুধ কেন কোনো ওষুধের নামই নেই।

তাই আপনাকে ডবল পাওয়ার দেওয়া হয় যাতে ৩২৫ চেক করতে করতে বাকি ৩২৫ আপনার লিভারের চোখে ধুলো দিয়ে শরীরে পৌছে কাজ শুরু করতে পারে। কিন্তু লিভার আসতে আসতে নিজের ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে ফেলে। ফলে কিছুদিন, কিছু মাস বা কয়েক বছর পর লিভার ৬৫০ মিলিগ্রাম পুরোটাই ধরে ফেলবে এবং বাইপাস করে দেবে। এর ফলে এই ওষুধে আপনার আর কাজ হবে না। তখন কি করতে হবে? ওষুধের ডোজ বাড়াতে হবে। পেন কিলার, সুগারের ওষুধ এই গুলোর ক্ষেত্রে এরকমই হয়। এভাবে করতে করতে প্রথমে একদিন আপনার লিভার ফেলিওর হয়ে যাবে পরে আসতে আসতে অনান্য অঙ্গ বা উল্টোটাও হতে পারে, লিভার এত স্ট্রং হয়ে যাবে যে কোনো ওষুধেই আপনর কাজ হবে না।

তাহলে কি ওষুধ খাবেন না (Health and medicine):

যে ব্যাবসা রমরমিয়ে চলছে ফুলে ফেঁপে উঠছে তা থেকে আমি আপনি কেউই নিস্তার পাব না এটা নিশ্চিত। ডাক্তারে কাছে গেলেই একটা মাসকাবারির ফর্দ ধরিয়ে দেবে আপনাকে, সেই ফর্দ মিলিয়ে ওষুধ কিনে খেয়ে নিজের আরও ক্ষতি করতে হবে। বিভিন্ন সমস্যার জন্য ওষুধ খেতে হয় আমাদের। তবে “ওষুধ খেয়ে সাময়িক সস্তি পেলেও আদপে আমি নিজের ক্ষতি করছি” এটা মনে রেখে ওষুধ খেতে হবে (Health and medication Paracetamol)। যথা সম্ভব কম ওষুধ খেতে হবে। দীর্ঘ সময় ব্যপী কোনো ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করতে হবে। যে কোনো ছোটো খাটো সমস্যা হলে ওষুধ না খেয়ে অন্য পদ্ধতিতে চিকিৎসা বা হোম রেমিডি থাকলে তা ব্যবহার করতে হবে। আপনার খাবার আপনার আসল ওষুধ সে কথা মাথায় রেখে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন যাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। অ্যালোপ্যাথি ছাড়া অনান্য চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। আজকের দিনে শুধুমাত্র ডাক্তার, ওষুধ, ল্যাবের ওপর নির্ভর করে থাকলে আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না, নিজেকে সচেতন হতে হবে।

medicine never heals you

এখন যে ওষুধের কথা বলবো (Paracetamol):

বহুল প্রচলিত ওষুধ প্যারাসিটামল (Paracetamol– Panadol, Calpol, Alvedon)। যে কোনো সমস্যা তে হাতের কাছে সহজলভ্য। অনেকেই ভাবেন এটা খাওয়াই যায় কোনো সাইড এফেক্ট নেই। প্যারাসিটামল হল অ্যানালজেসিক অ্যান্টিপাইরেটিক ড্রাগ (Analgesic and antipyretic drug) যা সাময়িক ব্যাথা উপসমের জন্য জ্বর কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয় (Temporarily relieve mild-to-moderate pain and fever)। এই ওষুধ প্রথম তৈরি হয়েছিল ১৮৭৮ সালে, তবে বহুল ভাবে ব্যাবহার শুরু হয় ১৯৫০ সাল থেকে।

এই ওষুধ কে আমরা যতটা নিরাপদ মনে করি ঠিক ততটা নিরাপদ এই ওষুধ নয়। তবে যদি অল্প সময়ের জন্য ব্যাবহার করেন বা মাঝে মাঝে তাহলে ক্ষতি কম। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের রির্পোটে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে দীর্ঘদিন ধরে এবং খুব কম সময়ের ব্যবধানে এই ওষুধ ব্যাবহার করা উচিৎ নয়। দীর্ঘদিন প্যারাসিটামল ব্যাবহারের ফলে লো ব্লাড প্রেসার (Low blood pressure), ব্লাড ডিজঅর্ডার (Blood disorders), লিভারে বিভিন্ন রকম পরিবর্তন (Liver changes) এমন কি সর্বচ্চ সাইড এফেক্ট হিসেবে কিডনি ড্যামেজ (Kidney damage) এবং লিভার ফেলিওর হতে পারে।

কম ওষুধ খান, জীবন যাত্রায় পরিবর্তন আনুন, ভাল অভ্যাস গড়ে তুলুন। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ আপনার শরীরের জন্য সঠিক খাদ্য নির্বাচন করা। আপনার প্লেটে কি থাকছে তার উপর নির্ভর করবে আপনার শরীর কেমন থাকবে। কারন, আপনার খাবারই আপনার ওষুধ।

লিখেছেন– এম. শুভম

তথ্যসুত্র:
* Acute kidney injury is said to occur in 1–2% of patients in paracetamol overdose / McCrae, J. C. , Morrison, E. E. , MacIntyre, I. M. , Dear, J. W. , and Webb, D. J. (2018) Long‐term adverse effects of paracetamol – a review. Br J Clin Pharmacol
* Paracetamol – Nicole France, BPharm / www.drugs.com
* Cancer Research UK / www.cancerresearchuk.org
* A clinical and safety review of paracetamol and ibuprofen in children, Dipak J. Kanabar / link.springer.com
* Books / Dr BRC / HIIMS Hospital
* The Mail Online reports / Nursing Times / www.nursingtimes.net
আরও পড়ুন:  Alexander the great: মহান দিগ্বিজয়ীর আড়ালে এক অজ্ঞাত দার্শনিক

এই মুহূর্তে