Friday, March 5, 2021
Home ব্লগ দূরত্ব শারীরিক, মানসিক নহে

দূরত্ব শারীরিক, মানসিক নহে

আউটলাইন বাংলাঃ ব্যস্ততা হোক সত্যের সাথে

আপনাকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হইয়াছে, আরো সঠিক ভাবে বলিলে বলিতে হয় “টু কিপ আ সেফ ডিসট্যান্স” যে দূরত্ব বজায় রাখিলে আক্রান্ত হওয়ার তেমন সম্ভবনা নাই। এক্ষেত্রে উহা প্রায় দুই মিটার বা ছয় ফুটের মত। অধিক সংখ্যক মানুষ রাস্তায় বাহির হইলে তাহা সম্ভবপর হইবে না, তাই এ হেন লকডাউন এর ঘোষনা। ইত্যাদি, প্রভৃতি বিষয়ে গভীর রেখাপাত করার প্রয়োজনীয়তা এখন নাই।

”লক্ষীমাতা সহায় হইলে মরনপন ছোটা ছুটি করিয়া চাল কলা মজুত করিয়া রাখা যায়। কিন্তু তা না হইলে অভাবের বিশ্বকর্মাগনের বাড়ীতে হাঁড়ি চড়া ক্রমশ দুঃসাধ্য হইয়া উঠিবে।”

দেশে করোনার সংক্রমন হইয়াছে,তাহা উত্তরোত্তর বাড়িয়া চলিয়াছে। এহেন পরিস্থিতি হইতে পরিত্রাণের উপায় নিশ্চিত ভাবে কাহারো জানা নাই। রোগ আছে চিকিৎসাও আছে, ব্রম্ভাস্ত্র খানি এ যাবৎ আবিস্কৃত হয় নাই। সাধারন মানুষ নিজ প্রানভয়ে অথবা মসৃন পুলিশি পদমর্যাদা সূচকটির ভয়ে বাড়ীতে বসিয়া রহিয়াছে। ইহাতে একটি সামাজিক দূরত্ব তৈরি হইয়াছে।

দূরত্ব শারীরিক হইলে সমর্থন যোগ্য, মানসিক হইলে নহে। লক্ষীমাতা সহায় হইলে মরনপন ছোটা ছুটি করিয়া চাল কলা মজুত করিয়া রাখা যায়। কিন্তু তা না হইলে অভাবের বিশ্বকর্মাগনের বাড়ীতে হাঁড়ি চড়া ক্রমশ দুঃসাধ্য হইয়া উঠিবে। করোনা সমগ্র মানবজাতিকে গ্রাস করে নাই। অন্নপূর্ণা যখন দোকান পাট খোলা রাখিবার সিদ্বান্ত গ্রহন করিয়াছেন, আশানুরূপ ভাবে যোগানের দায়িত্বও তিনি লইবেন।

”স্যোশাল ডিসট্যানসিং’ করিয়া মনুষ্য জাতি ‘ভার্চুয়াল স্যোশাল গ্যাদারিং করিতেছে”

কৃষি প্রধান দেশে কাহকে না খাইয়া মরিতে হইবে না, এই কথা খানি মানবকুলের মস্তকে প্রবেশ করে নাই, তাই কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি হইতেছে। ‘স্যোশাল ডিসট্যানসিং’ করিয়া মনুষ্য জাতি ‘ভার্চুয়াল স্যোশাল গ্যাদারিং’ করিতেছে। তাই ৮০ কিলোমাটার হেঁটে আসা শ্রমিকের পশ্চাতে পুলিশের মসৃন দন্ডপাত উহাদের কাছে আলোচনা এবং বিনোদনের খোরাক হইয়া উঠিয়াছে। পাশের বাড়ির ‌বৃদ্ধ দম্পতি রেশনের লাইনে দাঁড়াইতে পারিবেন না, বাড়ি থেকে বাহির না হইলে উহা দৃষ্টিগোচর হইবার অবকাশ নাই।

সমস্ত বিশ্বকর্মাগনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকিবার কথা নহে, তাহার কোন স্থানে লাইন দিবে? কালের নিয়মে কিঞ্চিত হাঁচি কাশি হইলে উহা সন্দেহভাজনের তালিকাভুক্ত হইতেছে। প্রভু আবাস হইতে রাস্তায় নামাইয়া দিবার নোটিস ধরাইতেছেন। গনমাধ্যমে বারংবার দেখাইতেছে ইহা একটি যুদ্ধের ন্যায় যাহা ভারতবাসীকে জিতিতে হইবে। মানসিক ভবে একত্রিত না হইলে যুদ্ধ জয় কি সম্ভবপর হইবে! এহেন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াইতে হইবে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখিলেও মানসিক দূরত্ব কাম্য নহে। মানব জাতির এই অমানবিক দিকটি বারংবার উঠিয়া আসিতেছে।

যাহারা এই দূর্দিনে মানুষের পাশে থাকার গুরু দায়িত্বটি নিজ স্কন্ধে লইয়াছেন তাহাদের আমার শ্রদ্ধা, ভালবাসা। শারিরীক ভাবে না থাকিলেও মানসিক ভাবে সর্বদা তাহাদের পাসে থাকিব এ আমার অঙ্গীকার।।

Most Popular